১. উলুমুল কোরআন
কুরআন কি?
কুরআন শব্দের অর্থ : পাঠ করা, বেশি বেশি পড়া।
পরিভাষায় : মহান আল্লাহ রাবুল আলামীন তাঁর বান্দার পথ নির্দেশের জন্য জিব্রাঈল (আ.)- এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর পর্যায়ক্রমে যা অবতীর্ণ করেছেন তা-ই আল কুরআন।
পবিত্র কুরআনুল কারীম বিশ্বের ইতিহাসে এক নিভর্ুল কিতাব। যা মানব জাতির জন্য এক পরিপূর্ণ হেদায়াত গ্রন্থ, পার্থিব ও পারলৌকিক জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এর মধ্যে নিহিত। যা আপন মহিমায় ভাস্বর, তুলনাহীন ও অপ্রতিদ্বন্দী মানব মুক্তির মহা স্বারক।
এ হচ্ছে একমাত্র কিতাব, যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আর ইহাই আল্লাহ-ভীরুদের জন্য হিদায়াত বা জীবন যাপন পদ্ধতি। (বাকারা : ২)
রমজান মাস। এ মাসেই হেদায়াত গ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যাতে রয়েছে মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা ও সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য উপদেশসমূহ। (বাকারা : ৮৫)
কুরআন পরিপূর্ণ জীবন বিধান :
এ কিতাবে আমরা কোন কিছুই বাদ দেইনি। (আনআম : ৩৮)
আলোচ্য বিষয় : মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণের পথ নির্দেশ করা।
বিষয় বস্তু : মানুষ।
বাচন ভক্তি : লেখার ধরন নয়, বক্তৃতাপূর্ণ। অধ্যাপকের বক্তৃতা নয়, একজন বিপ্লবী নেতার ঝংকার পূর্ণ বক্তৃতার ন্যায়।
কুরআনের অপর কয়েকটি নাম :
আল-হুদা
আল-ফুরকান
আন-নূর
আয-যিকর
কিতাবুল-মুবিন
আল-কালাম
কিতাবুল মাসানী
আল-হিকমত
কিতাবুল হাকীম
সিরাতুল-মুসত্দাকিম
আল হাদি
আল বোরহান
সূরা ফাতিহার অপর কয়েকটি নাম
উমমূল কুরআন
উমমূল কিতাব
সুরাতুত দোয়া
সুরাতুল মুনাযাত
সুরাতুস শিফা
সেরাতুল হামদ,
সেরাতুশ শোকর,
মোনাযাত,
সালাত,
সিজদাহ
সিফাহ
কোরআন অবতীর্ণের দিক বারটিঃ
মাক্কী
মাদানী
হিজরী
সাফরী
নাহবী
লাইলী
সেতাবী
সায়ফী
কেরাসী
প্রথম অবতীর্ণ
শেষ অবতীর্ণ
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর নেতৃত্বে পবিত্র কোর আন লিপিবদ্ধ করা হয়।
হযরত ওমর ইবনুল আবদুল খাত্তাব (রাঃ) এর পরামর্শে কোরআন লিপিবদ্ধ করা হয়।
কোরআন কিভাবে নাযিল হয়ঃ পবিত্র কুরআন একসাথে আল্লাহর রাসুল (সঃ) এর উপর নাযিল করা হয়নি, বিভিন্ন অবস্থা এবং ঘটনার পরিপেক্ষিতে আয়াত ও সূরা নাযিল হয়।
ওহী নাযিলের পদ্ধতিঃ ৮ টি
ঘন্টাধনির সাহায্যে
সত্য-স্বপ্নযোগে
হযরত জিব্রাইল (আঃ) স্বয়ং নিজ আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে
মানুষের আকৃতিতে (হযরত দাহিয়াতুল ক্বালবী (রাঃ)),
পর্দার অন্তরাল হতে আল্লাহর বাণী শ্রবণ
মৌমাছির গুণগুণ শব্দের ন্যায়
অন্তরে কোনকিছু ঢেলে দেয়া (ইলহামের মাধ্যমে)।
ইসরাফিলের ওহী
কুরআন অধ্যয়নের সমস্যা :
অন্যান্য সাধারণ গ্রন্থের ন্যায় মনে করা।
একই বিষয়ের বার বার উল্লেখ।
কোন বিষয় সূচী না থাকা।
কুরআন নাজিলের ঘটনা বা প্রেক্ষাপট না জানা।
নাসেখ-মানসুখ সমস্যা।
আরবি ভাষা না জানা।
ওহীর ভাষা না বুঝা।
রাসূলের বিপ্লবী জীবন না জানা।
ভিন্ন ভাষা হওয়া
ধারাবাহিকতার অভাব
সনি্নবেশ পরস্পর হওয়া
একটি বিষয় শেষ না হতে অন্য বিষয়ের অবতারণা
সমাধানের উপায় :
অধ্যয়নের সময় নিরপেক্ষ মন মগজ নিয়ে বসা।
কুরআন নাজিলের প্রেক্ষাপট ও রাসূলের বিপ্লবী আন্দোলনের বিভিন্ন অবস্থা ও পর্যায় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা।
ঘরে বসে কুরআন বুঝার চেয়ে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হতে হবে।
বেঠিক ধারণা মুছে ফেলা
একাগ্রচিত্তের সাথে অধ্যায়ণ
কোরআনের লক্ষ্যে সঠিক পথ প্রদর্শন
কোরআনের ভাষা টেলিগ্রাফী ভাষা
কোরআনের আলোচ্য বিষয় মানুষ
কোরআনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে বাচানো এবং হেদায়াত, মুক্তি ও কল্যাণের পথে তুলে নিয়ে আসায় কোরআনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
মৌলিক বৈশিষ্ট্যঃ
সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ
শেষ ঐশী গ্রন্থ
মানব জাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির সনদ
ভারসাম্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা
শ্বাশত আইন
অন্যতম সাহিত্য
রাসুলের (সঃ) শ্রেষ্ঠ মোজেযা।
নোকতা দানকারীঃ
যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ)
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
আবুল আসাদ দোহাইলী আল বসরী (র)।
কুরআনের সূরা ও আয়াতের প্রকারভেদঃ
বিষয়ভিত্তিক আয়াত ৩ প্রকার : যথা_ ১. হালাল ২. হারাম ৩. আমছাল
অর্থ বুঝার দিক দিয়ে ২ প্রকার : ১. মুহকামাত, ২. মুতাশাবেহাত।
নাজিলের দিক দিয়ে ২ প্রকার : ১. মাক্কী ২. মাদানী।
মাক্কী সূরা সংখ্যা : ৮৬টি। মাদানী সূরা সংখ্যা : ২৮টি।
মাক্কী সূরা : যে সমসত্দ সূরা রাসূলের (সা.) মাক্কী জীবনে অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে তাদেরকে মাক্কী সূরা বলে।
মাক্কী সূরার বৈশিষ্ট্য :
রাসুলকে (সঃ) দেয়া বিরাট দায়িত্ব পালনের উপযোগী উপদেশ
জীবন ও জগত সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা অপনোদন ও সঠিক বিশ্বাস সৃষ্টির চেষ্টা, ইসলামের বুনিয়াদী ভিত্তিকে বিভিন্নভাবে পেশ করা, তাওহীদ, রেসালাত ও আখিরাতের বেশি চর্চা।
মানুষের ঘুমনত্দ বিবেক ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে চিনত্দা শক্তিকে সত্য গ্রহণে আগ্রহী করা।
প্রাথমিকভাবে সবগুলোর ভাষা স্বচ্ছ ঝর্না ধারার মত ঝরঝরে, ছোটছোট, ছন্দময়, সহজে মুখস্থ হবার উপযোগী।
মাক্কী সূরা ব্যক্তি গঠনে হেদায়াত পূর্ণ।
মাক্কী সূরায় ধৈর্যের উপদেশ, বিরোধিতার জবাব ও মোকাবেলা করার পথ দেখানো হয়েছে।
হিজরতের পূর্বে নাজিল হয়েছে।
অধিকাংশ সূরা ছোট ছোট।
মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্যঃ
অধিকাংশ দীর্ঘ সূরা।
হিজরতের পরে নাযিল
সমাজ গঠনে বিধান
ফৌজদারী আইন, মিরাসী বিধান, বিয়ে-তালাক, যাকাত-উশর ইত্যাদীর নিয়ম কানুন।
দল, রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সামাজিকতার ভিত্তি
মুনাফিক, কাফির, জিম্মি, আহলে কিতাব যুদ্ধমান শত্রু, সন্ধিসুত্রে আবদ্ধ জাতির প্রতি আচরন।
জয় পরাজয়, বিপদ-শানত্দি, নিরাপত্তা ও ভীতি ইত্যাদী অবস্থায় মুসলমানদের কর্তব্য।
এক নজরে আল কুরআন :
রুকু : ৫৫৪টি
সিজদা : ১৪টি
পারা : ৩০টি
কুরআনের শব্দ সংখ্যা : ৭৭২৭৭ (মতানত্দরে) ৭৭৯৩৪টি।
অক্ষর সংখ্যা : ৩৩৮৬০৬টি।
পুনরাবৃত্তি আয়াতের সংখ্যা : ২৭৭৫টি।
কুরআনের সূরা সংখ্যা : ১১৪টি।
আয়াত সংখ্যা : ৬৬৬৬ (মতানত্দরে) ৬২৩৬টি।
কুরআনে কুরআন শব্দ এসেছে : ৬১ বার।
সর্বপ্রথম নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা : আল-ফাতিহা।
সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত/ওহী : আল-আলাক (১-৫)।
সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা : আন-নসর।
সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত বা ওহী : আল-বাকারাহ ২৮১।
সবচেয়ে বড় সূরা : আল_বাকারাহ।
সবচেয়ে ছোট সূরা : আল-কাউসার।
সূরা তওবার অপর নাম : বারাআত।
সূরা মুহাম্মাদের অপর নাম : আল-কিতাল।
কুরআনে উল্লেখিত সাহাবীর নাম : যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)।
সূরা আনফালে বদরের, তওবায় তাবুকের, আহযাবে খন্দকের, ইমরানে উহুদের যুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে।
কুরআনে জিব্রাইল (আ.)-কে রুহুল আমীন বলা হয়েছে।
জামিউল কুরআন হযরত উসমান (রা.) এর আদি পান্ডুলিপি তুরস্কের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
কুরআনে হরকত দেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
কুরআনের ১ম অনুবাদ করেন (আংশিক) মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া।
দারস তৈরীর নির্দেশিকা :
সহীহ তেলাওয়াত।
তরজমা/ সরল অনুবাদ।
দারসের পরিচিতি।
সূরা/হাদীস পরিচিতি।
সূরার নামকরণের কারণ।
নাযিলের প্রেক্ষাপট।
সূরার আলোচ্য বিষয়।
আয়াতের সংখ্যা।
দারস থেকে অর্জিত শিক্ষা।
কোরআনে রুহুল আমীন/কুদস কাকে বলেঃ হযরত জিব্রাঈল (আঃ)।
কোরআনে প্রথম হরকত সংযোজন করেন : হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
কোরআনে বর্ণিত নবীর সংখ্যাঃ ২৫ জন।
কোন্ সূরায় বিসমিল্লাহ নেই ও কোন্ সূরায় ২বার বিসমিল্লাহ আছেঃ সূরা তাওবায় বিসমিল্লাহ নেই ও সূরা নমলে ২ বার বিসমিল্লাহ আছে।
কোরআনে বর্ণিত সাহাবীর নামঃ হযরত যায়েদ বিন হারেসা (রাঃ)।
সূরা তাওবায় কবুল প্রাপ্ত ৩ জন সাহাবীর নামঃ
হযরত হিলাল ইবনে উমাইয়া (রাঃ)
হযরত মুরারা ইবনে রুবাঈ (রাঃ)
হযরত কাব ইবনে মালিক (রাঃ)
কোরআন বোঝার উপকরণঃ
আরবী ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন
রাসুলের (সঃ) এর জীবনী ভাল করে জানা
মুহাম্মদ (সঃ) কে একমাত্র আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করা
বিভিন্ন জাতির উত্থান-পতনের ইতিহাস গভীরভাবে অধ্যয়ণ
কোরআন গবেষক বা অতীত আসমানী কিতাব পড়া
সৃষ্টি জগতের বিভিন্ন রহস্য উপলব্ধি করা (বাক্বারা-১৯০)।
সংকলকঃ হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ)।
কোরআন সংকলনঃ ৩ টি পন্থা
লিখিত অংশ
সাহাবায়ে কেরামদের নিকট থেকে
হাফেজদের নিকট থেকে
কোরআন সংকলন ও সংরক্ষণের ইতিহাসঃ
মহানবী (সঃ) এর জীবিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সাহাবীরা কোরআন মুখস্থ করে নিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লিখে রেখে নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে হযরত আবুবকর (রাঃ) এর আমলে যখন ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন তখন হযরত ওমর (রাঃ) এর পরামর্শক্রমে যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন ও সংকলনের কাজ শুরু করেন। এর মূল এক কপি হযরত হাফসা (রাঃ) এর কাছে রাখেন।
আরও পরে হযরত উসমান (রাঃ) এর আমলে এসে যে সাতটি ভাষায় কুরআন রচিত ও প্রচলিত ছিল সবগুলো পুড়িয়ে দেন ও কুরাইশ ভাষা ব্যতীত সব ভাষার তেলাওয়াত লুপ্ত করেন। পরবর্তীতে একটি কপি আবার হযরত হাফসা (রাঃ) এর নিকট রাখেন এবং তার কয়েকটি কপি করে বিভিন্ন দেশের প্রধানদের কাছে পাঠান।
কুরআন সংরক্ষনের ইতিহাসঃ
সাহাবীদের মুখস্থ করে অন্তকরনের মাধ্যমে
গাছের পাতায় লিখে
গাছের ছালে লিখে
পশুর চামড়ায় লিখে
পশুর হাড়ে লিখে
পাথরের গায়ে লিখে।

This free website was made using Yola.

No HTML skills required. Build your website in minutes.

Go to www.yola.com and sign up today!

Make a free website with Yola